পরাক্রমশালী ওসমানী সাম্রাজ্যর "উত্থান" ও "পতন" যেভাবে হয়েছিল, অটোমান সাম্রাজ্যর ইতিহাস
![]() |
পরাক্রমশালী ওসমানী সাম্রাজ্যর `উত্থান"ও`পতন"যেভাবেহয়েছিল,অটোমান সাম্রাজ্যর ইতিহাস |
ওসমানী সাম্রাজ্যর "উত্থান" ও "পতন"। অটোমান সাম্রাজ্যর ইতিহাস ।
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, বন্ধুরা আশা করি সকলেই ভাল আছেন, আজ আমরা ইসলামি ইতিহাসের বড় একটি অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি,
বর্তমানে সারা বিশ্বে একটি টিভি সিরিয়াল মানুষের হৃদয়কে নতুন
করে জাগ্রত করেছে, সে টিভি সিরিয়ালটি যাকে নিয়ে তৈরি
করা হয়েছে, আজকে আমরা সেই মহান ব্যক্তিটির সম্বন্ধে জানতে চলেছি,
ইতিহাসের পাতায় যে কটি দীর্ঘ মেয়াদি সাম্রাজ্যের কথা জানা যায়, তার মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্য অন্যতম, ৬০০ বছরের বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই সাম্রাজ্য, মধ্যে এশিয়ার ইতিহাসে এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে, এটি প্রায় তিনটি মহাদেশ জুড়ে বিস্মৃত ছিল, যা এর আগে অন্য কোন সাম্রাজ্য করতে পারেনি।
১৫ শতাব্দীতে
সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে, অটোমানরা ছিল জগতের
শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য, তবে সময়ের পরিবর্তনে এত সফলতার পরও এই বিশাল
সাম্রাজ্যের পতন দেখেছিল গোটা বিশ্ববাসি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয় অটোমান সম্রাজ্যের শাসনকাল,
অটোমান সম্রাজ্য কিভাবে গঠিত হয়েছিল, এবং তাদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল, এবং বিশ্ব ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কি ছিল, এই বিষয়ে আজ আপনাদের জানাবো।
অটোমান সম্রাজ্যর মানচিএ |
ইউরোপের এক প্রাচীর সাম্রাজ্য হলো রোমান সাম্রাজ্য, যা প্রায় ৭৫০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলে, ৩৩০ খ্রিস্টাব্দের রোম সম্রাট কনস্টান্টাইন তার রুমের রাজধানী নিয়ে আসেন বাইজেন্টাইনে।
এবং ঐ রাজধানীর নাম রাখেন কনস্টান্টিনোপল ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দে আস্তে আস্তে রোমান সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, বাইজেন্টাইনের ভাগে থাকে রোমান সাম্রাজ্য, এর পর প্রায় এক হাজার বছর ধরে চলতে থাকে, কিন্তু ধীরে ধীরে এ বিশাল সাম্রাজ্য অনেকগুলো ছোট ছোট গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়, যার কারনে নাম রোমান সাম্রাজ্য হলেও এদের মধ্যে কোন রকম একতা ছিল না।
এমন একটি ছোট গোষ্ঠী ছিল অটোমান সাম্রাজ্য, অটোমান সাম্রাজ্যের বাস্তবতা ঘটেছিল ওসমান গাজীর হাত ধরে, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ওসমানী সাম্রাজ্য অটোমান সাম্রাজ্য নামে পরিচিতি লাভ করে, অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার অনেক দ্রুত হয়েছিল, ছোট ছোট গোষ্ঠী গুলোকে তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে একত্রিত করে ফেলেছিল ।
উপনিবেশিক শাসনে
ইংরেজরা যে দেশ দখল করত সে দেশের সংস্কৃতি, ভাষা, জীবন ধরনের পদ্ধতি, সব কিছুই পাল্টে ফেলার চেষ্টা করত, কিন্তু অটোমান সাম্রাজ্যের শাসকরা কোন সময় অন্য জাতী গোষ্ঠী গুলোর, সংস্কৃতি, ভাষা, জীবন পাল্টানোর চেষ্টা করত না, যার ফলে তাড়াতাড়ি অন্যান্য গোষ্ঠী গুলোকে একত্রিত করতে পেরেছিল অটোম্যান
সাম্রাজ্যের শাসকরা।
ইংরেজীতে অটোমান সাম্রাজ্যে বলা হলেও, তুরস্কের ভাষায় সেই সাম্রাজ্যের নাম ওসমানী সাম্রাজ্য, তার দলের সদস্যদের বলা হত ওসমানী, একজন গোত্রপতির হাত ধরে এই বিশাল সাম্রাজ্যের জন্ম হয়েছিল ৬০০ বছর ধরে, একের পর এক যুদ্ধ দিয়ে তারা ইউরোপ এশিয়া ও আফ্রিকার সহ বহু দেশ দখল করে নিয়েছিল।
কিন্তু একটি মহাযুদ্ধ সেই সাম্রাজ্যকে কয়েক বছরের মধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছিল, বর্তমান তুরস্কের আনাতলীর ছোট একটি এলাকা থেকে এই রাজত্বের শুরু হয়েছিল ১২৯৯ সালে, পরবর্তীতে লক্ষ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এর বিস্তার ছড়িয়ে পড়ে, প্রতিষ্ঠা কাল থেকে শুরু করে ১৪৫৩ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য রাজধানী, কনস্টান্টিনোপলের উপর জয় পর্যন্ত, বিভিন্ন সুলতানের শাসনামলে বিকশিত হতে থাকে অটোমান সাম্রাজ্য।
শুরুতে
পার্শ্ববর্তী অন্যান্য রাজ্যের মত অটোমান সাম্রাজ্য নিজেদের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য, মূলত
স্থানীয় বিভিন্ন সেনাপতি ও সামন্ত রাজ্যের শাসনের উপর
নির্ভরশীল ছিল, পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের ভালো
অবস্থান তৈরি হতে থাকে, সামরিক অর্থনৈতিক উন্নতি তাদের রাজ্য বিস্তারে আরো সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পরবর্তীতে ফাতিহ সুলতান মুহাম্মদ কন্স্টান্টিনোপল জয় করে, এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন "ইস্তাম্বুল", অটোমানদের এই সফলতার পেছনে কারো একক অবদান ছিল না, একাধিক শাসকরা এই অটোমান সাম্রাজ্যেকে সাফল্যর উচ্ছতায় নিয়ে যায়, অটোমান সাম্রাজ্যর শুরু হয়, কায়ী গুএ প্রধান আতুগ্রুল গাজীর হাত ধরে।
তার দেখানো পথেই, তার যোগ্য উত্তরসরি পুত্র ওসমান গাজী সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে।
অটোমান সাম্রাজ্যর পূর্বপুরুষ ছিলেন তুর্কিরা, আর তুর্কিরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার বাসিন্দা তারা ছিলেন অনেকটা যাযাবর গোষ্ঠী, সেখান থেকে দশম শতকে তারা পার্সিয়া বা আধুনিক ইরানের ভেতর দিয়ে নিজেদের বসবাসের উপযোগী জমির সন্ধানে যাএা শুরু করে, একাদশ শতকের দিকে তারা আর্মেনিয়া এবং আনাতোলিয়ার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে থাকে।
সেই সময়
ওই এলাকা ছিল বাইজেন্টাইন রাজত্বর অধীনে, এদিকে প্রাচীন রোমান্স সেই শাসকদের জৌলুস ততদিনে নিভুনিভু অবস্হায় যেতে
শুরু করেছে,
ইতিহাস বিদদের মতে, সেখানে একটি রাজত্ব বা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করে সেলজুক রাজবংশ, তাদের পক্ষে সীমান্ত এলাকায় লড়াই করে ভূমি বরাদ্দ পেয়েছিল কায়ী গোত্রের প্রধান আতুগ্রুল গাজী, পরবর্তীতে অটোমান বেইলিক নামে পরিচিতি পান তিনি, তুরস্কের ভাষায় বেইলিক মানে ছোট ছোট অধিপতি, যারা নিজেদের গোত্র বা বিশেষ এলাকার শাসন করতেন।
সেলজুক নিয়মে এসব বেইলিক প্রধানদের শত্রুর আক্রমণ
থেকে রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে সুলতান, যার কারনে সুলতানের
প্রয়োজনে তার পক্ষে যুদ্ধ করতে হতো, তবে তারা নিজেদের
রীতি নীতি মেনে চলতে পারতো।
আতুগ্রুল গাজীর মৃ*ত্যুর পর গোত্র প্রধান হন তার সন্তান ওসমান, ওসমান এর হাত ধরে পরবর্তীতে ওসমানী রাজত্বের প্রতিষ্ঠা হয়, তার মেধা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে একের পর এক যুদ্ধ জয় করতে থাকেন, ওসমান গাজীর ব্যক্তিগত যেই দক্ষতা ছিল, তিনি ঘোড়া দৌড়ানো অবস্হায় ঘোড়ার উপর থেকেই লক্ষ অনুযায়ী তীর চালাতে পারতেন।
এবং তখনকার সময় তার সাথে যে
কয়জন যুদ্ধা ছিল তারা প্রত্যেকেই খুবই শক্তিশালী ছিল,
অল্প সংখ্যক লোক নিয়েই তিনি বিপদমুক্ত হতে পারতেন। এবং তার কয়েকজন সেনার সামনে অন্য সেনারা দাঁড়াতেই পারতো না, এরপর থেকে তিনি ও তার উত্তর সরিরা ইউরোপ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশ দখল
করেন।
ইতিহাসবিদরা বলছেন ১৬ শতক থেকেই অটোম্যান সাম্রাজ্যের জৌলুস কমতে শুরু করে।
তারা ১৬৮৩ সালে, দ্বিতীয় দফা ভিয়েনা দখল করতে গিয়ে পরাজিত হলে, সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়, ১৮ শতকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া এবং হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্যের
তুলনায় তাদের সামরিক শক্তি অনেকটাই কমে যায়, আর যতটুকু বাকী ছিল তারও সমাপ্তি করে দেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
১৬ শতকে যখন নতুন নতুন অনেক দেশ আবিষ্কার হয় এবং ভারত ও চীনের বাণিজ্যের জন্য নতুন নৌ-পথ আবিষ্কার করা হয়, তখন অটোমানদের এলাকার উপর সকলের নির্ভরশীলতা কমে যায়।
সেই সঙ্গে ব্রিটেন, স্পেন, পর্তুগাল, নৌ শক্তিতে আরো অনকে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, অনেক গুলো এলাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অটোমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়, এছাড়া অন্যতম কারন ছিল! অদক্ষ সুলতানদের ক্ষমতায় আসা ও সব সময় জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে, নিজেদের মত অনুসারে কাজ করা, এবং কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় তখন সুলতানদের ক্ষমতা কমতে থাকে।
অটোমান শাসকের বিরুদ্ধে ১৮ শতকে একাধিক দেশে বিদ্রোহ শুরু হয় আরব, মিশর, আর্মেনিয়া, গ্রিস এসব এলাকায় যুদ্ধ শুরু হয়, আর্মেনিয়া ও গ্রিস এ গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠে অটোম্যানদের বিরুদ্ধে।
ইতিহাসবিদরা বলছেন অটোমান সাম্রাজ্যে পতনের বড় কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয় ও তুরস্ক সহ বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদের উত্থান।
প্রিয় দর্শক আজ এ পর্যন্তই পরবর্তী নতুন কোন পর্বে আবারো দেখা হবে, সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
💔 নামায বাদ দিওনা বন্ধু এপারের চেয়ে ও পারের জীবন অনেক সুন্দর 💔
ইসলামিক মিডিয়া